কে ঠকালো বাংলাদেশকে ?
কে ঠকালো বাংলাদেশকে ?
একটি জাতির স্বাধীনতা মানেই
কেবল
ভূখণ্ড
নয়,
এটা
স্বপ্ন,
সম্ভাবনা, আত্মমর্যাদার এক
নবজন্ম। বাংলাদেশ ঠিক
এমনই
এক
স্বপ্নের নাম
ছিল।
ভাষা
আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সর্বশেষে জুলাই
গণঅভ্যুত্থান। সবই ছিল একটি
সুন্দর,
সমানাধিকারভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ
প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা। কিন্তু
আজ
দাঁড়িয়ে প্রশ্ন
করি:
কে ঠকালো বাংলাদেশকে?
এই প্রশ্নটা কেবল
রাজনৈতিক নয়,
এটি
একটি
জাতির
আত্মজিজ্ঞাসা।স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে
এসেও
আমরা
এখনো
‘গণতন্ত্র’ কাকে
বলে
তা
নিয়ে
দ্বিধায়, ‘নির্বাচন’ মানে
কী
তা
নিয়ে
সংশয়ে,
‘নাগরিক
অধিকার’
কতটা
নিরাপদ
তা
নিয়ে
আতঙ্কে।
০৫ আগস্ট ২০২৪,
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই
দিনটি
এক
নতুন
অধ্যায়ের সূচনা
হতে
পারত।
“গণঅভ্যুত্থান” নামে
পরিচিত
জনতার
এই
প্রতিরোধ ছিলো
রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক
শক্তিশালী গণজাগরণ। মানুষ
রাজপথে
নেমেছিল ভোটাধিকারের জন্য,
সুশাসনের জন্য,
গণতন্ত্র ফিরিয়ে
আনার
জন্য।
সারাদেশে ছড়িয়ে
পড়েছিলো আন্দোলনের ঢেউ।
মনে
হয়েছিল,
হয়তো
এবার
রক্ত
আর
প্রতিহিংসার রাজনীতি শেষ
হবে,
আর
বাংলাদেশ এক
নতুন
শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পথে
হাঁটবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো,
সেই
প্রতীক্ষিত শান্তি
এখনো
অধরা। গণঅভ্যুত্থানের পর
কিছু
সময়ের
জন্য
রাজনৈতিক আলোচনা,
সংলাপ,
সহনশীলতার ইঙ্গিত
দেখা
গেলেও,
খুব
দ্রুতই
তা
আবার
পরিণত
হলো আশাহত এক সংলাপে। রাজপথ এখনো
রক্তাক্ত, মত প্রকাশে , মিছিল মিটিং করতে বাধা, মারধর,
গুলি,
দখল,
আগুন,
মামলা,
নির্যাতন আর
ভিন্ন
কণ্ঠস্বর দমনের
ছোবলে।
যে রাজনীতি মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হওয়ার
কথা,
তা
হয়ে
উঠেছে
ক্ষমতার লোভে
কলুষিত। সেই আগের মতোই রাজনীতি বিকৃত হলো ক্ষমতার চর্চায়।
স্বাধীনতার পর একে একে
সব
দলই
গণতন্ত্রের বুলি
আওড়ালেও কাজে
প্রতিষ্ঠা করেছে
একদলীয়
বা
ছদ্ম-গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এতো রক্ত দেবার পরেও এখনো জনগণ মুক্তি পেলোনা।
বরং নতুন এক সংকটের ঘোরটোপে বাংলাদেশ। আবারো ঠেকিয়ে
দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে।
তাহলে প্রশ্ন হতে পরে, কে
ঠকাচ্ছে? বাংলাদেশকে যারা ঠকিয়েছে, তারা কেবল
রাজনৈতিক চক্র
নয়,
তারা
হলো
আমরা
সবাই,
যারা
চুপ
করে
থেকেছি,
সুবিধা
নিয়েছি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ
খুলি
নাই। ঠকানোর ইতিহাস কি তাহলে বদলিবে না?
হ্যাঁ ! ঠকানোর এই ইতিহাসকে শুধরানো সম্ভব।
প্রয়োজন-জবাবদিহিমূলক রাজনীতি, জনগণের
ভোটাধিকার নিশ্চিত করা,
স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও
মিডিয়া
প্রতিষ্ঠা করা,
তরুণদের নেতৃত্বে আনা,
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ, জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি। হই- হই- রই
রই ডাক পড়লেই ছুটে চলা জনগণ যখন না বুঝেই কারো পিছে দৌড় দেয় কোন প্রত্যাশার আশায়,
দৌড় শেষে দেখতে পায়, সামনে কোন পথ নেই। জনগণ পিছিয়ে যায়। আমরা আবার ঠকতে থাকি।
প্রতারণার ফাঁদে পড়ি। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতি সচেতন জনগণ। কিন্তু এই কাজটিই
পূর্ণাঙ্গরুপে করা হয়নি বাংলাদেশে।
Comments
Post a Comment